আলোচনা | ডাঃ এ এম আসিফ রহিম




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

আধ্যাত্মিকতা ও বিজ্ঞান 
ডাঃ এ এম আসিফ রহিম 

আধ্যাত্মিকতা এসেছে অত্যাশ্চ ব্যাখ্যাহীন কিছু রহস্যময়তা থেকে। মুলত মানুষের শরীরে আত্মার অস্তিত্ব অদৃশ্য অথচ বর্তমান। একজন মানুষ বলতে কখনো  কখনোই শরীর বা মন দিয়ে বুঝায় না। আত্মার সাথে শরীর ও মনের যে সম্পর্ক সে শিক্ষা হল আধ্যাত্মিকতা। আবার যে শিক্ষা অর্জিত হল সেটা হল্প আধ্যাত্মিক। এটা আবার দর্শন ও ধর্ম ভেদে ভিন্ন হয়। ধর্ম হইল মন যা গ্রহন করে এক ধরনের জীবন যাত্রা র রীতি আর আধ্যাত্মিকতা তার অংশ বিশেষ। মুলত এই আধ্যাত্মিকতা না থাকলে মানুষ নৈতিক হয় না শিক্ষাও পুর্নাঙ্গ হয় না৷ অন্যদিকে বিজ্ঞান জড় বস্তু কেন্দ্রিক যুক্তি থিউরি নির্ভর চাক্ষুষ প্রমানের ভিত্তিতে হয়৷ এখানে কোন বিশ্বাস বা অনুভুতির স্থান নেই। কি দেয়া আঁছে কি প্রমান করতে হবে এই যেন বিজ্ঞানের কাজ। আবার নৈতিকতা দিয়ে বিজ্ঞান চর্চা না হলে  তা শুধুই ধবংসই ডেকে আনে। সভ্যতাও যায় পিছিয়ে। তাই মানবকল্যানের জন্য বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় খুব বেশি প্রয়োজন। আধ্যাত্মিকতা সাধনায় স্রস্টার  দেখা বা অস্তিত্ব মিলে আর বিজ্ঞানের সাধনায় যুগান্তকারি আবিস্কার হয় এই আবিস্কার মানব কল্যানের বিপরীত হলে আবার ধবংস অনিবার্য হয়ে যায়। গাছের কান্ড যদি হয় দৃশ্যমান মুল অদৃশ্যমান কিন্তু মুল থেকেই গাছের সব অংশ ক্রমান্বয়ে বিকশিত হয় সময়ের সাথে৷ একইভাবে অদৃশ্য আত্মা থেকেই মানব জীবনের শারিরীক আর মানসিক বিকাশ হয়। সেখানে ধর্ম ও দর্শন কাজ করলেও বৈজ্ঞানিক যুক্তি তর্কের স্থান খুব সীমিত বা নাই বললেই চলে। বিজ্ঞান ধর্ম দর্শন মানে না বিজ্ঞান কিছু পরীক্ষিত সুত্র অংক প্রমান এর ভিত্তিতে চলে।ফলে বিশ্বাস বা অনুভুতির পাল্লা দিয়ে একে বিচার করা অসম্ভব অনেকটাই জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল। অজানাকে আবিস্কারের নেশাই বিজ্ঞান আর স্রস্টা ও আত্মার অদৃশ্যমানতা জানার নেশাই আধ্যাত্মিকতা। অথচ বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা দুটোই কিন্তু সৃষ্টিজগতের অজানাকে আবিস্কারের মাধ্যম৷ একটি দৃশ্যমান বস্তুগত জগতের সন্ধান দেয় আরেকটি অদৃশ্য জগতের সন্ধান দেয়। এবং দুটিতেই মানুষকে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা সাধনা করতে হয়৷ 

বিজ্ঞান বলে জগতে সব কিছুই আপেক্ষিক কোন কিছুই সত্য নয়৷যা বিজ্ঞানি আইনেস্টাইন থিউরি অফ রিলেটিভিটি দিয়ে প্রমান করেছেন। আবার বিজ্ঞানের শক্তি নিত্যতার সুত্রে বলা আছে পদার্থের বিনাশ নাই এক রুপ থেকে অন্য রুপে পরিবর্তিত হয়৷ আর আধ্যাত্মিকতা ধ্রুব সত্য কথা বলে পৃথিবীর স্রস্টা আছে যিনি সব কিছু সৃস্টি করেছেন  আবার তিনিই মৃত্যু দেবেন প্রকৃতির সব কিছু তার নির্দেশেই চলে  চাদ সুর্য দিন রাত সবকিছু নিয়ম মানে তার এতে কোন ব্যত্যয় নেই৷ এবং এই পৃথিবীর সৃষ্টির মত ধবংস ও অনিবার্য । মানুষের পাপ পুর্ন্য সব বিচার হবে কেউ  স্বর্গ ও  নরক   বাসি হবে নিজ নিজ কাজ অনুযায়ী। আর বিজ্ঞান বলে ধ্রুব সত্য বলে কিছু নেই জন্ম মৃত্যু স্বাভাবিক জীবনের অংশ সময়ের সাথে দেহ ক্ষয় প্রাপ্ত বিভিন্ন রোগ হয় যা মৃত্যুর কারন৷ মৃত্যুর পরে আর কোন পরকাল নেই বিচার নেই এমনকি স্রস্টাও নেই। বিজ্ঞানের কাছে মন বলে কিছু নেই আত্মা বলেও কিছু নেই আছে শুধু শরীর। পাপ পুর্ন্য বিজ্ঞানের কাছে অবান্তর। সে নির্দিস্ট যুক্তি বা সুত্র বা জ্ঞানে পরিচালিত হয়। আর আধ্যাত্মিকতায় ভাল মন্দ পাপ পুন্য ইত্যাদি বিদ্যমান৷ খারাপ মানুষ ও আত্মিক  সাধনা করে ভাল সাধু মানুষ হতে পারে পাপের অনুশোচনা স্রস্টার ক্ষমা ও  তার নির্দেশ পালন করে প্রার্থনা করার মাধ্যমে৷ তাই আধ্যাত্মিকতা আর বিজ্ঞান দুইটা পাশাপাশি মিলেই সভ্যতার উৎকর্ষ আর মানব কল্যান সম্ভব। অন্যথায় বর্তমান বিশ্বের মত শোষন হত্যা রক্তাক্ত যুদ্ধ হিংস্রতা ক্ষমতা আর প্রভাব প্রতিপত্তির দাপটে সভ্যতা বিপন্ন হবে মানব কল্যান হুমকির সম্মুখীম হবে৷ বর্তমান বিশ্বব্যাপি করোনা সংক্রমন তারই জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত৷ তাই এখনো সময় আছে আধ্যাত্মিকতা আর বিজ্ঞানের সমন্বয়ে পৃথিবীকে নতুন করে জাগার নতুন এক সভ্যতার সুচনা করা যা হবে মানবতাকেন্দ্রিক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ