পোস্ট বার দেখা হয়েছে
মেঘলা ছাদে.....
এক মিনিট নয়, বেশ কয়েক মিনিট নীরবতার ভেতরে
আকাশ নিয়েছে সাজ - অসূর্যস্পশ্যা !
এমন ঢাকা দিনে তোকে চুপ করে পড়ে নিতে হয় -
বৃষ্টি ছাটে ঘর-বাইরে জুড়ে পাখির ঠোঁটে ভিজে যাপন ;
এমন সময় কোনো প্রশ্ন রাখতে নেই...
দুই শালিকের হলুদ পায়ে ঘাসের সবুজ খুনসুটি,
মাখতে নেই -
বড়ো অংকের শূন্য খাতায়, ফুল মার্কসের সঠিক টিকে উত্তর জুড়ে থাকতে নেই -
দেখছি তো তোর বাউন্ডুলে চুলের ভেতর মেঘের বাড়ি,
লাট্টু- ঘুড়ি ভূগোল পাতায় নানান শেপে- তুর্কী ঘোড়ার লাগাম ছুঁয়ে জোর ছুটেছে-
ধন্দে আছি, মাছের চোখে কোন তারাকে আনলি নামিয়ে মেঘের ঘরে !
লুকিয়ে থাকার একলা মজা কুড়িয়ে নিয়ে সাগর চিবুক বালি ঘেটে নোনা ঝিনুক - খোঁজে...
এমন দিনে নাই থাকুক রোদ, মুছে যাক সব উত্তর ;
আমাদের সব প্রশ্ন থাকতে নেই...
====
অভিশাপের উপত্যকায়.....
এই আমি তোমাকেই খুঁজছি স্বাধীনতা, অধিকার
পরাজিত দু'হাতে আমার ঝুরো মাটি, দেশের ভেতরে লুকিয়ে
ঘর-
খুঁজতে খুঁজতে পাখিদের লুপ্তপ্রায় ভাষা, লিপি-
যেখানে আদিম আমরা, শিরস্ত্রাণ পড়ে আছে করোটির ফসিলে-
বন্য উপজাতিরা কেমন করে ভালোবাসা শিখেছিলো একদিন!
পাথরের শরীরে ডিনামাইট ছুঁড়ে বিধ্বস্ত পর্বতে একা শিবির
আমাকে তো পথ জানতে হবে ভৌগলিক গতিপ্রকৃতি খুঁজে-
তোমার অন্তস্থলে কতগুলো নদী আমাদের নথিপত্রে পরিসংখ্যান!
তবেই তো জলসেচ, ফসলের শেকড়ে আজন্ম পাতক হয়ে
পড়ে থাকবো পানীয় নির্বিশেষ..
রহস্য তার মতো থাকবে বলেই মলাটে ঘিরে রাখে ইন্দ্রজালিক
গোলার্ধ -
বৃত্তে ঘোরা আমাদের সহবাস তবুও পারস্পরিক দূরত্বের নিমিত্ত,
আমরা যখনই একে অপরের আলিঙ্গনে ছুঁয়ে যাবো শরীরে কাঁধে-
বিপর্যয়ে নেমে আসবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শতাধিক ফুজিয়ামা!
এ পৃথিবীর চারপাশে গালিভারস অভিযান, দিনগুলো লিলিপুট গল্পের রচনাকার -
দীর্ঘ দৈত্য রাত তার ভেতরে ঢুকিয়ে রেখেছে উপাদেয় সামগ্রী, সমস্ত মনোরম চাবিকাঠি -
আসবাবের ভেতরে আজও পুড়ে যাওয়া চিঠির অশরীরী আর্তনাদ...
তুমি কি শুনতে পাওনি --
ভেজা শীত এভাবেই মাটিতে রেখে গেলো অসময়ের কান্না বৃষ্টি!!
=====
পৃথিবী......
অনেকদিন আগেই যে হারিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো!
বহু প্রাচুর্য নিয়ে অন্তঃসার আলোর গভীরে অন্ধকারে সরু সাঁকো বাঁধা -
সেইসব অদৃশ্যের আততায়ী;
যারা ঠোঁটে করে- বহুবার এনেছিলো মারণ বিষ!
শহরে গলিতে নিশ্বাসে লেগে ছিলো মৃতুর অনিবার্য হাসি!
ঘুম ভাঙতেই দেখেছি অরণ্যে ধ্বংসের চিহ্ন-
নগরের বিধ্বস্ততা কপালের লাল মাটি ধুয়ে রেখে গেছে!
সাদা বরফের উপত্যকায় জেগেছে আর এক সূর্যোদয়ের দেশ -
ভাঙা এক নৌকায় আমি; ফিরে পাওয়া দ্বিখণ্ডিত স্বদেশ -
জানতাম এটুকুও "আমি" আমার নই -
এখানে প্রতিটি হাড় মাংস এমন কী পচা গলা পূঁজ রক্তও নিজের নয়,
বিক্রিত জন্মের পরিচয় - যেখানে কয়েক কোটি নাগরিক অনুবৃত্তি এক শরীরে বয় -
ঘরের মালিকানাও দরজাকে পোহাতে হয় -
ধাক্কাধাক্কি! দখলদারি, অত্যাচারের কালো হাত,মাফিয়াবাজি, বিস্ফোরণ- উদ্ভিন্ন রক্তবীজের শক্তি প্রদর্শন...
ইতিবৃত্তের সাথে জুড়তে জুড়তে পাতা-
তক্ষশীলার অধ্যক্ষ নক্ষত্র কাঁটায় কালো শাল বুনে যায় -
ভগ্নাংশের টুকরো- খাওয়া আপেলের ছবি! এভাবেই হারিয়ে যাই!

7 মন্তব্যসমূহ
মেঘলা ছাদে : এই হল কবি জয়তী দাস। শব্দের ভেসে যাওয়া প্রত্যক্ষ করি, আর তারিয়ে তারিয়ে জলবেলা মেখে নিই ।
উত্তরমুছুনঅভিশাপের উপত্যকায়.... :-
উত্তরমুছুনতবু উপত্যকা জুড়ে নেমে আসে আধখাওয়া চাঁদ
আঁচলে জোছনা বেঁধে লুকিয়ে রাখ
পেঁচা আর ইঁদুরের মৃত্যু শোক
ভিজতে ভিজতে আমিও আমিও
জ্বর গায়ে মেখে নিই -
অভিশপ্ত ভালোবাসা।
পৃথিবী.....
উত্তরমুছুনধ্বংসস্তুপ কোনও অলংকার নয়
বিচ্ছিন্নতা কোনও গণ্ডী নয়
সব শেষের শুরুতে রাত্রি আসে
ঘাতকের মতো,
সুনামির ওপর পিঠে গড়ে ওঠে
এক সভ্যতা!
সে সভ্যতা না - মানুষের
হয়তো বা উন্নত জীবের প্রাণ রসে
লেখা হয় ধ্বংসের গান।
প্রতিটি কবিতাই ভীষণ ভীষণ ভালো লাগলো ।
উত্তরমুছুন
উত্তরমুছুনপ্রত্যেকটা কবিতা অসাধারণ
অসাধারণ প্রতিটি কবিতা
উত্তরমুছুনঅসাধারণ প্রতিটি কবিতা
উত্তরমুছুন