শ্রেষ্ঠ পরিসংখ্যান কলম | অলিপা পাল




পোস্ট বার দেখা হয়েছে



কলমে : অলিপা পাল

মহাশূন্য


সহস্র কোটি বসন্ত —
ভুল প্রেমে কেটে গেলো যুগ-যুগান্ত—
আবার ভালবাসলেই,সব ভুলে পা বাড়ালেই,ভুল দিগন্ত—
আরও সহস্র ভুলে,নির্বোধ আমি দিকভ্রান্ত;
তোমার ভালবাসা কি-গোপন করার মতো!
দেখিয়ে-দেখিয়ে শুনিয়ে-শুনিয়ে ভালবাসতে হয়—
তবুও তোমার লালসা মেটেনা, নদী-নর্দমার বিভেদ বোঝনা,
যার তার ময়লা আমি মাখি না;
যে রকম ছিলে,অবিকল সেই তুমি!
ছিপের খেলায় তোমার চাতুরী—
বড়শিতে গেঁথেছ হৃদয়ের রক্ত ঝরা আশ,অন্ধকে টোপ দেওয়ায় তুমি সওদাগরী,প্রেমের রক্তে হাত কে করেছ লাল,তোমার লোক দেখানো মান,তুমি আজন্ম বেইমান;
যে ভালবাসা গুলো আমার থেকে-হাত পেতে নিয়েছিলে ভিখারির ছদ্মবেশে,
আজ ব্যস্ত তুমি সে গুলোই  দিতে অন্য কোন হাতে,হয় তো বা ছলে বলে কৌশলে;
তুমি যতটা কাছে এনে ছিলে,আমি পারি তার চেও দূরে সরে যেতে,
ভালবাসা যতটা দিয়েছি,তার চেও পারি ভালবাসাহীন হতে;
নিজেকে নিংড়ে যাকে সব দিলে ঢেলে!লুকানো প্রত্যাশা কি ছিল মনের কোণে?ভেবে ছিলে সেও বুঝি দেবে মেলে! কি পেলে আলোর ঘর ছেড়ে?
অন্ধকার ঘূর্ণি পাক এক গভীর গহ্বর 
শূন্য থেকে মহা শূন্যের পথে ঘুরে-ঘুরে ক্রমে-ক্রমে,সরে আরও সরে হয় বিলীন মহাশূন্যের দ্বারে—

====

প্রাণ


আজ আমার ইচ্ছা মৃত্যুর বাৎসরিক,তোমার দেওয়া উপহার-আমার মৃত্যুর দিন!

রুদ্রাক্ষ হয় বহুমুখী ভালবাসা যা নিও একমুখী হয়ে তা দিও
বিনিময়প্রথা চাইনি প্রিয়,ভালবাস ব্যক্তিগত হওয়াই শ্রেয় !

মনুষ্যত্বহীন তুমি!তোমার,
দলানো গন্ধহীন ঝরা ফুল আমি;যত্নে কুড়ানো মালির দেবালয়ে থাকি;তোমার ঔদাসীন্যে ভরা - নির্বিকার-নির্লিপ্ত-উওরহীন আকাশ,দুঃখ-সুখের উর্দ্ধে শ্বাস রোধ হয়ে যায় আধারের প্রহর

ধন্য করেছ,আমার আমিকে চিনে নিতে;থরে থরে আঘাত না পেলে অক্ষর নীলা হত না জানি;সেই আমি!সমূলে তুলেছি খিদে তাড়না,কষ্টকে স্পর্শ করে সুখ কিনি,আর্শিতে গাঁথি মূল্যবোধের মুখোশ,
নিজের মত গুছিয়ে নিচ্ছি সমাজ;ফেরার পথে শিকল তোলা,আমার নামের পাশে বেড়া দিও,লিখো আমার আত্মবলি!
পূরণ করুক তোমার শূন্যস্থানে
নরম পলি;চির ঘুমে ঢেকে যাক নাগরিক পথ,আহুতি হোকসৃষ্টির পৃথ্বিলোকে প্রাণ ভুলে।

===

চিত্রপট

জীবন কি শুধু উজান স্রোতেই বয়!বিরতি মানে থেমে যাওয়া তো নয়!
এথামা মনের থামা নয়,বাতাস যদি তোমায় গিয়ে বলে-ভেলা একলা ভেসে চলে,বুঝি নতুন ডিঙি পেয়ে,পাশকাটিয়ে যাবে?নাকি বাপাঁজরে চিনচিনে ব্যথা হবে?
যে পথ দিয়েগেছ চলে-পথের ধূলো উড়িয়ে,ওড়াপাতা-বুনোফুল দলিয়ে 
মণিমুক্তার খোঁজে!
প্রকৃতিকে বলো ইশারাতে—
তারচেয়ে মণিমুক্তা অনেক বেশি দামি
সে তো অন্য কোথাও নয়! রাজার মুকুটে শোভা পায়;

আমি তো আজও মাটির পুতুলখেলি
যেদিন ,ময়ূরপঙ্খী পাখায়,আমায় উড়িয়ে নিয়ে গেলে ,ঘরের ওই 
চিলেকোঠার ছাদে!
সেই পুতুলের মন খারাপের দেশে—
বাসর ঘরে এসে,দিলে ফুলের সুবাস ঢেলে,স্পর্শে মাখা-আবেগ ভরা-অনুভবের ছোঁয়ায়;
মন খারাপের ঢালে এল রূপকথার-ই দোলা;পুতুল বুঝি সেদিন থেকে বাসর জাগার অনেক স্বপ্ন দেখে-তার জীবন কাহিনীতে...

তোমার জয়ে আমি জয়ী ,তোমার হাসিতে হাসি,আজন্ম তোমায় ভালবাসি;আমি হব জাতিস্মর,তোমার কপতাক্ষ গানে,আবার এসো ফিরে গঙ্গা নদীর তীরে,থাকব অপেক্ষায়!
রুপাই-সাজুর দেশে,কোপাই নদীর ধারে,ভাসবো দুজনে, কলার
ভেলায় চড়ে,মেঠো গানের সুরে;

বলতে-বলতে ভুলে গেলাম,তোমার চোখে বিভর ছিলাম, আজও রোজ বিকেলে দেখি,সেই চিলে কোঠার ছাদে-বসত করে দুইটি প্রেমের পাখি
স্বপ্নে দেখি!তাদের নীলচে ঠোঁটের ছোঁয়ায়,আবছা আলোর ছায়ায়, তোমার ময়ূরপঙ্খী ওই আসছে বুঝি উড়ে,পুতুল খেলার শান্তিনিকেতনে
আবার নিয়ে চলো সখা-সেই ভালবাসার দিনে;
 
এ স্বপ্ন!শুধু স্বরলিপি নয়,নয় কবিতা বা নিছক পদ্য লেখা,শিল্পী !তোমার  তুলির ছোঁয়ায়,এ যে জীবন্ত এক নির্বাক চালচিত্র আঁকা ৷৷  

===

আমার আকাশ


অবশেষে গোধুলির হল অবসান !গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে আলো ছায়ার খেলা ,দিগন্ত জুড়ে এক অচেনা সত্য !মিথ্যের পৃথিবীকে সত্য বানিয়ে ভালোই আছি !

পেরিয়েছি অন্তবিহীন এক পথ 
আজ আমি অবসরপ্রাপ্ত ষাটউর্দ্ধ বৃদ্ধা,একবার নয় তিন-তিন বার  ডিভোর্সী আমি ! আঁতকে ওঠার মতই লাগল শুনতে !
শুষ্কতায় ঝড়ে যাওয়া ফ্যাকাশে পাতায় করুণার সবুজ দিলো এক বিপত্নীক-বেলাশেষে,আমার সঙ্গী-বন্ধু-বটবৃক্ষ হয়ে,সেই লাল সীমান্তেও পড়লাে সাদা আভাস !
এক সন্তান ,সুখী দাম্পত্য-মেধাবী-প্রবাসী ব্যস্ততায় ভরা তার কর্ম জীবন,বুঝি!ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখে;
মাঝে মধ্যে অবশ্য খোঁজ নেয় ,
ওষুধ ঠিক মত খাই কিনা !
অভিমান আজ শিখর চূড়ায়
হোয়াটস্-আপের  নীল দাগ টাও বোঝে
ভালবাসার দরজা হয় হাতলবিহীন,
ভেতর থেকে খোলে
আমার মনের পুরুষ'দের হাতল ছিলো,যেচে এসেছে হাতলে টান পড়েছে চলে গেছে!
এসমাজ আমাকে তকমা দিয়েছে নষ্টা !চায়ের ভাঁড় হয়েছে শৈশব থেকে যৌবন হয়ে পৌঢ়া;
বড় সভ্য এই সমাজ,সতীত্ব 
হরণের কি বুঝতাম সদ্য সাক্ষর হওয়া আমি বা আমরা !
কে বাদ দেয়নি !
গৃহশিক্ষক থেকে দাদা-অফিসের বস্ থেকে বাবা !
আমার ঝলসানো রূপে সবাই কে পুড়িয়ে ছাড়খার করেছি,এই আমি নন্দিনী সেন !
যাই বলুন !সম্বরণে আমার শরীরী ভাষা বোঝাত অহংকার!দিদি বৌদি রাও-আমার মায়াবী চোখ থেকে সরিয়ে রাখত তাদের স্বামী নামক সম্পত্তিটিকে !
আমিও ধোয়া তুলসী পাতা'নই!
উপভোগ করতাম নষ্ট নামের তকমা নিতে;
থাকি বা না থাকি, কিছুতেই আর কিছু আসে যায় না,
নিন্দুকেরা তো থাকল নিন্দা নিয়ে
চলা'র পথের কিছু সম্পর্কের গভীরটান থেকে যায় চেনা- অচেনা,দেওয়া-নেওয়ার উর্দ্ধে আজীবন অপেক্ষাতে;
কেউ কি ভালবাসে, বাসতেপারে, বেসেছিল আমায় !
আমার অতীত জুড়ে কতোনা লোনা জল!কোন ভৌতরাশি বলবে এর পরিমাপ !মেতেছি এক অন্য নেশায়
দিশেহারার মত তারা গোনায়
জোনাকি আর তারা'দের মিছিলে নাম লেখানোই শ্রেয়।

===

অঙ্কন : হীরক জ্যোতি দাস


মাটির ভাঁড়

কোন এক বিকেলে তোমার সাথে দেখা হলো প্ল্যাটফর্মের ধারে—
 আমি রেলেরগাড়ি চড়ে—
তুমি সেদিন বোলপুরে—
গভীর চাউনি,হাতে চায়ের ভাঁড়,ঠোঁটে জলন্ত সিগারেট—
অবিকল কুড়ি-কুড়ি বসন্ত আগের সেই তুমি!
 খেলার ছলে বলে ছিলে গ্রহণ কর, যৌবনের সরল মনে করে ছিলাম মনের গভীরতম স্বরে,নিছক ভ্রমে ফিরে এলে বৃদ্ধ মোহনার চড়ে;
রাঙিয়ে দিয়ে মাতিয়ে দিলে তোমার গন্ধমাদন বোলে
কেমন আছ তুমি!
ভালোই আছো জানি—
আজও এই শহরেই থাকো!
তোমার সুখের নীড়ে!নাকি অন্য কোথাও অন্য কোন খানে?
একই গঙ্গা দেখি তবু খবর রাখিনা কারও,কোন এক দিনে আলে-কালে বারো মাসে—
আজও যাও পাতাল রেলে চড়ে?ফেরও ওলা গাড়ি ধরে?রাত দুপুরে কাকে বলো?এই তো কাজ শেষ—
সেও বুঝি উতলা হয় তোমার অপেক্ষায়!আমার মত করে?
সেও কি ছেলে মানুষি করে! তোমার কণ্ঠ স্বরে তারও বুঝি বুক কাঁপে? আমার মত করে!আমার মত তারও অসুখ আছে নাকি!তোমার ঘোরে থাকার,তোমায় চোখে হারাবার;
অথচ তোমার কাছে দমকা হাওয়ার মত আমার অস্তিত্বের অবস্থান—
এসব কথা ভাবায় না আর তোমায় ! কি করে বদলে গেলে এত!
হাঁপ ছেড়েছ আমার অত্যাচারে ? নাকি আজও ব্যথা হয় বাপাঁজরে!
আজও কি মাটির ভাঁড় যত্নে রেখেছ! নাকি মণিমুক্তা গেঁথে সোনালি রঙের ছবি এঁকেছো!তোমার কাছে সোনা বুঝি মাটির চেয়েও দামি !
এ দামি কি অনেক বেশি খাঁটি!
আমিও যে বদলে গেছি ভারি— পাগলামো যে আসে-না-আর-বড়ো—
শামুকের খোলসে মুখোশ পরে আমি নির্বিশেষে—
তোমার আসা যাওয়ার পথের বাঁকে ভালোবাসার মুক্তাকুড়াই অনিমেষে—
আমার নিঃশ্বাস ভরা বিষে,বিশ্বাস বড় ঠুনকো,রাস্তা ছিল সাপের মত
নিরুদ্দেশে নিকষ কালো,ছন্নছাড়া করলে হেলায়,পৌছে গেলাম দ্বীপান্তরে;মৃত্যুদণ্ড পাওনা ছিল
না হয় সেটা নাইবা দিতে—
আমার সময় বড় শেষ —
যেতে হবে সাত সমুদ্র তেরো নদীর দেশ—
আর হয়ত হবে না আর ফেরা,এবার মুক্ত হবার পালা,নীল আকাশের
ছায়া পথ ধরে,অনিশ্চয়তার পাড়ে,এক অসুখে সবাই অন্ধ-সমুদ্রের বাতাস বয়ে বেড়ায় অস্থির গন্ধ—



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

10 মন্তব্যসমূহ

  1. প্রত্যেকটা লেখা অপূর্ব।
    ভীষণ ভালো লাগলো।
    তোমার সাহিত্য বিচরণ এমনি করেই এগিয়ে চলুক।
    শুভ কামনা নিরন্তর।
    ভালো থেকো বোন।

    উত্তরমুছুন
  2. ধন্যবাদ বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণকে ও সম্পাদক দেবাশীষ ভট্টাচার্য
    আন্তরিক কৃৃতজ্ঞতা
    আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য
    ধন্যবাদ জানাবো হীরক জ্যোতি দাস কে
    ওর অসামান্য অর্থযুক্ত অঙ্কন মিলে গেছে আমার লেখার সাথে

    উত্তরমুছুন
  3. খুব ভালো লিখেছেন । সমস্ত লেখা গুলোই এক অসাধারণ আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে ।

    উত্তরমুছুন
  4. মুগ্ধতা একরাশ
    এগিয়ে চলুক কলম
    ছন্দে ছন্দে শ্বাস
    শুভ কামনা নিরন্তর 💐

    উত্তরমুছুন
  5. Liked it very much, Congratulations 🌺

    উত্তরমুছুন