পোস্ট বার দেখা হয়েছে
সৃজন : দে ব লী না
ফিরে যাও বাঁশিওয়ালা
সুশান্ত
বাষ্পরঙিন কাচ জানলায় আবছায়া স্বপ্নের ফেরিওয়ালা
ঠাওর করতে অসুবিধে হয় না
সে সকালবেলার বাঁশিওয়ালা;-
ঝুলিতে বাঁশি ছিল, রোদও ছিল ততধিক
আন্তরিকতার পারদ স্তম্ভ তখন উচ্চতার মাপকাঠি মানে না...
যে তাপে বিলীন হতো বালুকণা
সে তাপ এখন অশ্রুজলও শুকোতে ব্যর্থ...
ফিরে যাও বাঁশিওয়ালা, ফিরে যাও
অনন্ত কৃষ্ণগহ্বর গন্তব্য- নিতান্তই- বাধ্য- অনাসক্ত- নির্লিপ্ত- মোক্ষ...
উদভ্রান্ত হাওয়ার বেগে দিগভ্রষ্ট লক্ষ্য
ভাষণে বচনে ভেসে যায় অন্তরিত আক্ষেপ
বিদগ্ধ সমাজের মাধুকরী আগামীর বলাৎকার পদক্ষেপ
বিস্মরণে সকল স্মৃতি নদী হয়ে বয়
গবাক্ষে শিশিরের ঢল নামে -একাকীত্ব- উত্তেজিত-প্রলম্বিত...
ফিরে যাও বাঁশিওয়ালা, ফিরে যাও
ব্যাধ, তুমি কি ঘুমিয়ে?
ঠাওর করে মন্দ প্রাচীর ভাঙবে তবে কে?
নিষাদ, তুমি কি ক্লান্ত?
অসঙ্গাত ধরিত্রীতে সুখ পোড়াবে কে!
লজ্জা এখন বিষয়বস্তু নয়
মোটা ভাত, সাথে চামড়াপচা গন্ধ- আহা, কী অব্যর্থ...
কচি না সোমত্ত?
পুষ্প- আবার কুলীন অথবা দলিত!
জাহ্নবীর জঙ্ঘায় উত্তরণের ঢেউ...
এতদিনের সঞ্চিত বিশ্বাস-ভরসা ফেলে যাচ্ছ কী কেউ?
বন্ধ হয়েছে বাঁশির রন্ধ্র- আকীর্ণ- অমান্য- নিরাবয়ব- নিরাসক্ত...
ভগ্ন হৃদয়ের বিষ নি:শ্বাসে বাজবে না সে বাঁশি আর...
ফিরে যাও বাঁশিওয়ালা, ফিরে যাও
কোন্ দূর দেশ হতে দুহাতে শুভ্র বস্ত্র সম্বল করে এসেছ হে অনাহূত ব্রাহ্মণ
বক্ষে জড়িয়ে আপন করেছি -সে অপরাধ আমার নয়
আমার ধর্ম আমার দুর্বলতা!
আমার বিশ্বাস কি তবে আমার ব্যর্থতা!
হে মহামানব
সঙ্গি করো তোমার মহাপ্রস্থানের পথে...
ফিরে যাও বাঁশিওয়ালা, ফিরে যাও।
অঙ্কন : অঙ্কিতা দাস
একান্ত আলাপচারিতা--
সুপ্রীতি দাস
মাঝ রাতে যদি চাঁদ আঁধারে হারিয়ে যায়
ভেবে নিও সে চোখের জল লুকিয়েছে কোথাও - - - - -
আকাশ যদি কালো মেঘে ঢেকে যায়
জানবে তুমি তার খোঁজ রাখ নি।
কখনো দমকা ঝোড়ো হাওয়া দেখে যদি ভয় পাও---
তবে জেনো কেউ বুকের নীল বন্দরে ওঠা তুফান কে সামলাচ্ছে
মমতা মাখা মেঘের বুকেও বিদ্যুতের থাকে নিদারুণ হাহাকার
ঝড় বাদলে বুক চিরে বেরিয়ে আসে বুকফাটা আর্তনাদ
তোমার সময় কোথায় এই সব নিয়ে ভাববার??
এক ঝাঁক তারার মাঝেও সন্ধ্যাতারার একলা যাপন----
মনে রেখো আজও আমি স্বপ্নের কালপুরুষের অপেক্ষায় বাঁচি।
কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে যখন চরাচর ভাসে -
জানবে আমি আজও তোমার কাছাকাছি আছি।
====
বৃষ্টির বৃষ্টি
মৌমিতা চক্রবর্তী
বৃষ্টির পায়ে পায়ে
যদি পদচিহ্ন এঁকে রাখো আমার উঠোনে
কথা দিচ্ছি
প্রাণেশ্বরী চিরকাল থাকবে বসে হৃদয়াসনে।
বৃষ্টির মৃদঙ্গমে
যদি ধলাই গায় সৃষ্টির নাম কীর্তন
কথা দিচ্ছি
মাটির জঠর ছোঁবে বে-দরদীর কর্ষণ।
বৃষ্টির নৌকায়
যদি পাল তোলে বধূয়ার প্রেমপত্র
কথা দিচ্ছি
পরবাসে পৌঁছে দেবো মিলনের সূত্র।
বৃষ্টির মেঘমালা
যদি ভাসায় আমনের সুখপুর
কথা দিচ্ছি
ছেড়ে দেবো ভাতঘুমের সব দুপুর।
বৃষ্টির দলিল
যদি কপালে ভাঁজ ফেলে ছাউনির
কথা দিচ্ছি
সখ্যতা ভুলে দেখবে বিরূপতা অভিমানীর।
বৃষ্টির ময়ূরাক্ষী
ভুল করেও হয় যদি বিপদগামী
কথা দিচ্ছি
জল থৈ থৈ পথে নামবেন অন্তর্যামী।
অঙ্কন : অমিত দাস
ছায়া নেবে গো
কাজল ঘোষ
‘ ছায়া নেবে , ছায়া নেবে গো!’ হাঁকছে পসারী
বিকেল , তোমরা কোথায় —
সারা দেহে তার শীতল ক্লান্তি —ছায়া দিতে চায়
অনেক কিছু শেখায়
কামরাঙা ডাল বিকেল বেলায় শরীরে আবীর মাখে
সবুজ টিয়া নাচছে তো তাই কামরাঙা শাখে শাখে
বিকেল বেলা শুনতে পাই শঙ্খচূড়ের কান্না— কেউ কি কাঁদে সুখে
জেগে উঠলাম , দেখতে পেলাম কেয়া ফুলটি
ঘুমিয়ে আছে বিষধরের বুকে
সামনে দেখছ ওই যে পাহাড় বিকেল বেলা হলে
রাত্রির প্রতীক্ষা করে কেমন ভাসে নয়ন জলে
কেউ খোঁজে না ছায়ার শরীর পড়ন্ত বিকেলে — সকাল সাঁঝে
মানুষ কেন সয়না তবে কোনো তাপই বল—
শুধুই ছায়া খোঁজে
তুমি খোঁজো না ????????



1 মন্তব্যসমূহ
সকলকে অভিনন্দন 🌹🌹
উত্তরমুছুন