নেতাজি : যাঁর মৃত্যু নেই || জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

নেতাজি—

শুধু একটি নাম নয়,

একটি  অনির্বাণ অগ্নিশিখা

যে নাম উচ্চারিত হলেই

মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ায় ইতিহাস।


তিনি কারও অনুকরণ নন—

তাঁর তুলনা তিনি নিজেই।


দেশের জন্য ভালোবাসা নয়,

তিনি ছিলেন ভালোবাসারই দেহ।

উড়িষ্যার কটকে,

ঘড়ির কাঁটা যখন  ছুঁয়েছে দুপুর

একটি শিশু সকলের অজান্তে জন্ম নিয়েছিল—

ডাকনাম  ‘সুবী’।


মায়ের চোখে মমতা

পিতার চোখে ন্যায়

আর সেই কিশোরের ভেতরে সতত 

একটি অস্থির প্রশ্ন—

এই সোনার দেশটা কি সত্যিই পরাধীন থাকবে?


ছাত্রজীবনে তিনি বই পড়েছেন

ঠিকই,

কিন্তু অপমান পড়তে শেখেননি।

তার আদর্শ পুরুষ যে স্বামী বিবেকানন্দ। 


শ্রেণিকক্ষে জাতিকে গালি দিলে

তিনি কলম বই ফেলে,

উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছেন—

সপাটে চড় মেরেছেন উদ্ধত ওটেন সাহেবের গালে।

প্রকৃতপক্ষে সেই চড় ছিল পরাধীনতার মুখে।


আই.সি.এস পাশ করেও

অত্যাচারী ইংরেজের 

চাকরি নেননি।

কারণ তাঁর কাছে

চেয়ার নয়, চরিত্র  ছিল বড়।

ক্ষমতা নয়,

ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ছিল তাঁর সাধনা।


কংগ্রেসে থেকেও

তিনি আপস শেখেননি।

হরিপুরা, ত্রিপুরী—

গণতন্ত্রের ভিতরে দাঁড়িয়েই

তিনি বলেছিলেন—

স্বাধীনতা ভিক্ষা নয়,

স্বাধীনতা সংগ্রাম।


যেদিন তাঁকে গৃহবন্দি করা হলো,

সেদিনই ইতিহাস বুঝে গিয়েছিল—

এই দুর্নিবার অগ্নিশিখাকে কখনও 

শিকলে বেঁধে রাখা যায় না।


এক রাতে,

পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে

তিনি বেরিয়ে গেলেন।

নানান ছদ্মবেশে উল্কার মতো পাড়ি দিলেন 

পেশোয়ার, কাবুল, মস্কো, বার্লিন।


মানচিত্র পেরিয়ে ছুটে চলা

একটা আগুন।

আজাদ হিন্দ ফৌজ—

এটি কোনো বাহিনী নয়,

এটি ছিল বজ্রসাহসের স্বপ্ন।


“জয় হিন্দ”—

এটি শুধু স্লোগান নয়,

এটি ছিল সম্মানের সঙ্গে 

মাথা তুলে বাঁচার অঙ্গীকার।


ইম্ফল, মণিপুর—

ভারতীয় মাটিতে

প্রথম স্বাধীন নিশ্বাস।

ইংরেজ জানত,

এই মানুষটিকে না সরালে 

সাম্রাজ্য টিকবে না।

তাই কি বিমান দুর্ঘটনার গল্প?

তাই কি হঠাৎ নীরবতা?


আমরা জানি—

নেতাজির মৃত্যু নেই।

কারণ যাদের মৃত্যু হয়,

তাদের ডেথ সার্টিফিকেট থাকে।


আর যাঁদের থাকে অমরত্ব,

তারা বেঁচে থাকেন আবহমান মানুষের হৃদয়ে।


যারা তাঁকে ক্ষমতায় বসতে দেয়নি,

তারা আজ ইতিহাসের অসহায় বিবর্ণ পাদটীকা।

আর নেতাজি—

আজও প্রবলভাবে বেঁচে আছেন, থাকবেন

প্রতিটি সচেতন ভারতবাসীর ধমনী প্রবাহে।


তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—

শরীরকে শক্ত করো,

মনকে শুদ্ধ করো,

হৃদয়কে স্বদেশমুখী করো।

এই তিনের মিলনেই

হয়ে ওঠো আলোকিত মানুষ।


নেতাজি মানে

ভাঙা মানচিত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

নেতাজি মানে

অখণ্ড স্বপ্ন।

নেতাজি মানে

বিশ্বের চিরসবুজ সংগ্রাম।


তিনি নেই—

এ কথা বলার সাহস কারও নেই।

কারণ নেতাজি

শুধু একটি জন্ম নন।

তিনি এক সাহস ও পরাক্রমের প্রতীক।


নেতাজি একটি জাগরনের নাম।

নেতাজি  একটি চেতনার বিস্ফোরণ। 

নেতাজি একটি দেশপ্রেমের পরিভাষা। 

নেতাজী একটি উন্নয়নের দিশা 

নেতাজি একটি সংহতির বীজমন্ত্র।


---------------------------------------------

২২ জানুয়ারি ২০২৬ 

কোলকাতা ৩০

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ