পোস্ট বার দেখা হয়েছে
সবুজ বনভূমির নীরবতায়
মহুয়াফুলের গন্ধে ভিজে থাকা হাওয়ার শরীরে
আজও উচ্চারিত হয় একটি নাম…
বিরসা মুন্ডা।
অরণ্যের সন্তান, মাটি ও মানুষের আত্মা,
অবিসংবাদিত এক জনজাতির বীরযোদ্ধা।
জন্মেছিলেন, ১৮৭৫-এর ১৫ নভেম্বর।
উলিহাতুর ধুলোমাখা উঠোনে।
শৈশব থেকেই বুকের ভিতর জ্বলে উঠত প্রশ্ন—
আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ।
তবু কেন এত অন্যায় ? এত অত্যাচার?
কেন ব্রিটিশ শাসকের বুটের নিচে পদদলিত হতে হবে আদিবাসী জীবন, মুন্ডা জনজাতির অস্তিত্ব,
শতাব্দীর স্বপ্ন?
চাইবাসা স্কুলের ছাত্র বিরসা
ক্রমে হয়ে উঠলেন মানুষের নেতা,
সমাজের পথপ্রদর্শক,
শোষিত বঞ্চিত মানুষের কান্না
যার অন্তরে আঘাত হানতো বজ্রের মতো।
সেখানেই শুরু—
মুন্ডা বিদ্রোহের।
উলিহাতু থেকে রাঁচির দক্ষিণাঞ্চল,
অরণ্যের বাঁশি উঠল বেজে- 'উলগুলান!'
মুন্ডারি ভাষায় উলগুলান- অর্থাৎ ‘প্রবল বিক্ষোভ’,
যার অর্থ - মাথা নত না করা,
স্বাধীনতার দাবিতে মরণপণ লড়াই এর শপথ।
বিরসা তখন শুধু নেতা নন—
মানুষের চোখে ‘ভগবান’,
যিনি বলেছিলেন—
“এই মাটি আমাদের, এই আকাশ আমাদের,
আমরাই গড়ে তুলব আমাদের মুন্ডা রাজ।”
বিপ্লবের আগুন ক্রমে কাঁপিয়ে তুলল ব্রিটিশ শাসন।
শুরু হল ধরপাকড়, অত্যাচার, জেলবন্দি,
১৯০০ সাল ইতিহাসের এক অন্ধকার বছর।
ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্রে
রাঁচি সেন্ট্রাল জেলের ভেতর ফাঁসির আগের দিন,
৯ই জুন বিষ মেশানো খাবারে কলেরা হয়ে নিভে গেল এক অগ্নিশিখা।
মাত্র ২৫ বছরের জীবন।
তবু ইতিহাসে লেখা হল তার সংগ্রামী বীরগাথা, অমরত্ব।
বিরসা মুন্ডা শুধু এক বিপ্লবের নাম নয়—
তিনি প্রতিরোধের প্রতীক,
অসীম সাহসের শপথ,
আদিবাসী অধিকার ও সম্মানের প্রজ্জ্বলিত মশাল।
আজও ঝাড়খণ্ডের পাহাড়ে হাওয়ায়
শোনা যায় তার কণ্ঠ—
“জাগো, উঠে দাঁড়াও,
নিজের মাটির অধিকার ছিনিয়ে নাও।”
বীরযোদ্ধা বিরসা মুন্ডা
তোমার আত্মবলিদান প্রান্তিক মানুষের অনুপ্রেরণা,
তোমার সংগ্রাম আমাদের মেরুদণ্ড,
তোমার নাম…
মাটি, মানুষ, বন, নদী—
সবখানে আজও ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত....
তোমাকে অন্তহীন শ্রদ্ধা।
স্বাধীনতা সংগ্রামের এক জ্বলন্ত মশাল,
বিধ্বংসী তির ধনুক,
বিরসা মুন্ডা।
------------------------------------------------------------------
Photo - Facebook থেকে সংগৃহীত
রচনা : ১৫.১১.২০২৫, কোলকাতা ৩০

0 মন্তব্যসমূহ