গরিবের জীবন।। স্বপ্না মজুমদার




পোস্ট বার দেখা হয়েছে


ও খেঁদির মা,, তোর কি সব বাঁধা ছাদা হলো? বেলা হয়ে আসছে। এরপরে বেশি রোদ উঠলে তো আমার কষ্ট বাড়বে। তোর আর কি। ঘরে বসে থাকিস। কষ্ট কি বুঝবি ? দে দেখি দুটো পান্তা, কাঁচা মরিচ। খেয়ে পেট জুড়াই। যেতে হবে তো? 


খেঁদির মা চাপার দু চোখ বেয়ে জল পড়ে, স্বামীর কথা শুনে। এমন ঠেস মারা কথা সবসময় বলে। শাশুড়িও বলেন। শুনে শুনে কান ঝালাপালা। সারাদিন ঘরের কাজ করে চাপা। বাড়ির সকলের মুখ খাবার তুলে দেয়। 

দিনভর কাজ করে করে, হাতে কড়া পড়ে গেছে। 


বড়ি, আচার, পাঁপড়, মুড়ি ভাজা, চিড়ে ভাজা। একহাতে সব তৈরি করে সে। তারপর প্যাকিং। এভাবেই চলছে তার জীবন। তবুও শুনতে হয় কি করিস সারা দিন ধরে। রোদে তো বেরোস না। 


হাতে সামান্য পয়সা আছে। লুকিয়ে সরিয়ে রেখেছিল সে। কাছে পয়সা আছে বলে খুব আনন্দ হয়েছিল তার,সেদিন। 

পাটের দড়ির দাম বেড়েছে। গলায় দড়ি দেবে কিভাবে? 

ওদিকে বিষের শিশি কেরোসিনেরও বেশ দাম।কেনার অতো পয়সা নেই। তাহলে আত্মহত্যা করবে কিভাবে? 

দিনগুলো পেরোচ্ছে মুখ বুজে। উপায় কি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ